'যশ'-এর আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে মানুষের, ঝড়খালি-গোসাবা-বাসন্তীতে মাইকে হুঁশিয়ারি প্রশাসনেরও

অনুমান করা হচ্ছে ২৫ মে মধ্যরাত থেকে ২৬ মে ভোরের মধ্যে তা ল্যান্ডফল করতে পারে 'যশ'

Updated By: May 20, 2021, 10:07 PM IST
'যশ'-এর আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে মানুষের, ঝড়খালি-গোসাবা-বাসন্তীতে মাইকে হুঁশিয়ারি প্রশাসনেরও

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা নিয়ে সতর্কবার্তার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় 'যশ'(Yaas) মোকাবিলায় রাস্তায় নেমে পড়ল প্রশাসন।

গত বছর ২০ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় আমপান(Amphan)। এবছর ফের রাজ্যের মাথার উপরে ঝুলছে ঘূর্ণিঝড় 'যশ'-এর খাঁড়া। সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে সুন্দরবনের ঝড়খালি, গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিংয়ে মানুষকে সতর্ক করতে শুরু করল প্রশাসন।

আরও পড়ুন-মুকুন্দপুরে কোভিড রিলিফ সেন্টার, এডিটর অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্‍সর্গ কান্তির  

আয়লা, আমপানে তছনছ হয়েছিল সুন্দরবন। এবার 'যশ'-কে নিয়ে তাই বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোসাবা, ঝড়খালি, বাসন্তী ও ক্য়ানিংয়ে(Canning) মাইকে মানুষকে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। ওইসব এলাকার মানুষজন এখনও জানেন না, নতুন এই ঘূর্ণিঝড় কতটা শক্তিশালী হবে।

প্রশাসনে তরফে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে, বাড়িতে যেসব খাদ্যশষ্য, প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে তা গুছিয়ে রাখুন।  এলাকার জলনিকাশী ব্যবস্থা ঠিক রাখুন।  পাশাপাশি ঝড় সম্পর্কে সবসময় খবর রাখুন। পরিস্থিতি সেরকম বুঝলে কাছাকাছি ফ্ল্যাড সেন্টারে গিয়ে আশ্রয় নিন।

গত বছর আমপানের ক্ষত এখনও মানুষের মনে দগদগে। কয়েক মুহূর্তে ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়, নদীবাঁধ ভেঙে নোনা জল হুহু করে ঢুকে পড়েছিল চাষের জমি-ঘরবাড়িতে। গৃহপালিত জন্তু জানোয়ার হারিয়ে যায় নিমেষে। ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ এখনও ভালোভাবে মেরামত হয়নি। তার উপরে আবার বিপদ মাথার উপরে। সেই একই পরিস্থিতি এবারও হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ওইসব এলাকার মানুষের মনে। এককথায় এখন থেকে ঘুম ছুটেছে মানুষের।

আরও পড়ুন-মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক বাতিল নয়, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী; অফলাইনেই পরীক্ষা?

ঝড়খালীর বাসিন্দা একাদশী মণ্ডল বলেন, গতবার তো রক্ষে পেয়েছি। এবার কীভাবে পরিবারকে নিয়ে বাঁচব বুঝতে পারছি না। এখনও করোনার মরণ ফাঁদে আটকে রয়েছি। তার উপরে আসছে ঝড়। ঘরে রয়েছে গরু, হাঁস, মুরগী। তাদের নিয়ে কোথায় যাব ভাবতেই পারছি না।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া দফতরের পূর্বভাস অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় যশ-এর ফর্মেশন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তা হয়ে যাবে ২২ মে নাগাদ। তারপর সেটি স্থলভাগের দিতে এগোতে থাকবে। অনুমান করা হচ্ছে ২৫ মে মধ্যরাত থেকে ২৬ মে ভোরের মধ্যে তা ল্যান্ডফল করতে পারে। নিশানায় রয়েছে ঝড়খালি, কাকদ্বীপ, ক্যানিং, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, সন্দেশখালি, বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, বকখালির মতো এলাকা।