শহীদ দিবসের জেরে তীব্র যানজট, দিনভর ভোগান্তিতে শহরবাসী

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই তৃণমূলের একুশে জুলাই সমাবেশ। রাস্তা থেকে  উধাও সাড়ে আট হাজার বাস। দিনভর নাকাল হলেন নিত্যযাত্রীরা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই বাদুড়ঝোলা হয়ে অফিস গেলেন অফিসযাত্রীরা।

Updated By: Jul 21, 2014, 06:40 PM IST
শহীদ দিবসের জেরে তীব্র যানজট, দিনভর ভোগান্তিতে শহরবাসী

কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই তৃণমূলের একুশে জুলাই সমাবেশ। রাস্তা থেকে  উধাও সাড়ে আট হাজার বাস। দিনভর নাকাল হলেন নিত্যযাত্রীরা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই বাদুড়ঝোলা হয়ে অফিস গেলেন অফিসযাত্রীরা।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, হাওড়া থেকে শিয়ালদা, সর্বত্রই পথযন্ত্রণার খণ্ডচিত্র। যন্ত্রণা বাড়ল ক্যানসার রোগীরও।সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। অফিস কামাইয়ের জো নেই। বেরোতেই হবে। তবুও বেরোননি অনেকে। যাঁরা বেরিয়েছিলেন, চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন তাঁরা। অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়া, ব্যবসায়ী থেকে রোগী, নাকাল হলেন প্রত্যেকে। সৌডজন্যে তৃণমূলের ''ধর্মতলা চলো''।

সকাল দশটা। শিয়ালদা স্টেশন থেকে ধর্মতলাগামী সমস্ত রাস্তা কার্যত চলে গেল তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দখলে। বাস নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলেন অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া। যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দুর্ভোগের শিকার রোগীরাও।

কেমো দিতে এসে যন্ত্রণার শিকার এক বৃদ্ধা। বেহালা থেকে মেডিক্যাল কলেজে এসেছিলেন। কিন্তু, ফেরার সময় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হল হাসপাতালেই। রাস্তায় বেরোনোর উপায় কই!

হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ অপেক্ষা অফিসযাত্রীদের।  হাতে গোনা যে কটা বাসের দেখা মিলেছে তাতেও বাদুড়ঝোলা ভিড়। যাঁরা লঞ্চঘাটের দিকে পা বাড়ালেন, দুর্ভোগ অপেক্ষা করছিল সেখানেও। ঝুঁকি  মাথায় নিয়েই অফিস গেলেন যাত্রীরা। বড়বাজার, স্ট্র্যান্ড রোড, কিরণশঙ্কর রায় রোড, ক্যানিংয়েও ভোগান্তির ছবি স্পষ্ট।

দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাওড়ামুখী বাসের দেখা নেই। দেখা মিলন না সরকারি বাসেরও। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শুধু ভোগান্তিরই ছবি।

মানুষ যে কতটা ভোগান্তিতে পড়েছে তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।

ধর্মতলায় সভা-সমাবেশ করা যাবে না। ক্ষমতা আসার পর একথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত তিন বছরে বিরোধীদের কাউকেই অফিসপাড়ায় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিধি ভেঙে শাসকদলই সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিল যন্ত্রণার মুখে।