১২ বছরের পাকিস্তানি ছেলের জন্য সীমান্ত খুলে দিল ভারত, জিতল মানবিকতা

এর পর সাবির বাবা কোনওভাবে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা জানান। সেই পাকিস্তানি সাংবাদিক আবার অমৃতসরের একজন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য প্রার্থনা করেন। 

Updated By: Mar 27, 2020, 01:46 PM IST
১২ বছরের পাকিস্তানি ছেলের জন্য সীমান্ত খুলে দিল ভারত, জিতল মানবিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদন— জম্মু—কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকে হয়তো একটা দিনও সীমান্তে গোলাবর্ষণ বন্ধ করেনি পাকিস্তান। কিন্তু এত শত্রুতার মাঝেও এবার জয় হল মানবিকতার। ১২ বছরের পাকিস্তানি ছেলের জন্ৎ সীমান্ত খুলে দিল ভারত। এদেশ থেকে হার্ট সার্জারি করে দেশে ফিরল পাকিস্তানের সাবি সিরাজ। তবে গোটা ব্যাপারটা এত সহজে হত না দুই দেশের দুজন সাংবাদিক সিরাজের পরিবারকে সাহায্য না করতেন! দেশে ফেরার আগে অবশ্য সাবিরের বাবা বলে গেলেন, ভারতের এই সাহায্য় আমি কোনওদিন ভুলব না। ভারত আমার হৃদয়ে থাকবে।

গত মাসেই নয়ডার এক হাসপাতালে হার্ট সার্জারি করাতে এসেছিল সাবি ও তার মা—বাবা। করাচির বাসিন্দা সাবির অস্ত্রোপচার হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। তার পর থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। ১৮ মার্চ ছুটি পায় সাবি। এর পরই তারা আটারি বর্ডার পৌঁছন দেশে ফেরার জন্য। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরই গোল বাঁধে। ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগের আধিকারিকদের বারবার অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। সাবি ও তার বাবা—মাকে পাকিস্তান ফেরত যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছিল না ভারতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এর পর সাবির বাবা কোনওভাবে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা জানান। সেই পাকিস্তানি সাংবাদিক আবার অমৃতসরের একজন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য প্রার্থনা করেন। 

আরও পড়ুন— লকডাউনে বাড়ি ফেরার জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত! দুটি ট্রাকে চেপে বসলেন ৩০০ জন

দুই দেশের দুজন সাংবাদিক নিজের দেশের সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সাহায্য চান। এর পর পরিস্থিতি বিচার করে ১২ বছরের সাবির জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তিনজন পাকিস্তানির জন্য স্পেশাল পাস তৈরি করা হয়। এর মাঝে সাবির ও তাঁর বাবা—মাকে অমৃতসরে নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখেন অমৃতসরের সাংবাদিক রবিন্দর সিং। যাওয়ার আগে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জাহির করে যায় সাবি ও তাঁর পরিবার। সাবিরের বাবা বলে যান, ভারত কাউকে ফেরায় না। আমি ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।