এক হাতে রাইফেল, অন্য হাতে দুধের প্যাকেট! শ্রমিক মায়ের অনুরোধ রাখতে ট্রেনের পিছনে ছুটলেন আরপিএফ জওয়ান

শ্রমিকদের ভোগান্তির যেন আর শেষ নেই। কোনওরকমে বাড়ি পৌঁছাতে পারলে তাঁরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। 

Updated By: Jun 5, 2020, 04:05 PM IST
এক হাতে রাইফেল, অন্য হাতে দুধের প্যাকেট! শ্রমিক মায়ের অনুরোধ রাখতে ট্রেনের পিছনে ছুটলেন আরপিএফ জওয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদন - প্রায় প্রতিটি ট্রেন আট থেকে দশ ঘণ্টা দেরিতে চলছে। ফলে প্রবল জলকষ্ট ও খাবারের অভাব। কিন্তু এত কষ্ট সহ্য করেও বাড়ি পৌঁছাতে চায় প্রবাসী শ্রমিকরা। লকডাউনে অন্য রাজ্যে আটকে ছিলেন কয়েক লাখ শ্রমিক। সরকার শুরুতে তাঁদের কথা ভাবেনি। ফলে হাজার ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের। শেষ পর্যন্ত শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে তাঁদের। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তির শেষ নেই। ঘণ্টার পর ঘন্টা ট্রেন লেট। অনেক শ্রমিকের খাবার কেনার সামর্থ নেই। এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেন লেট হলে শ্রমিকদের কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না। শ্রমিকদের ভোগান্তির যেন আর শেষ নেই। কোনওরকমে বাড়ি পৌঁছাতে পারলে তাঁরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। 

কর্ণাটক থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর যাচ্ছিল শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। সেই ট্রেনেই ছিলেন সালমা হাসমি। সঙ্গে তাঁর তিন মাসের মেয়ে। ট্রেন কয়েক ঘণ্টা লেট। ফলে মেয়ের জন্য পর্যাপ্ত দুধ ছিল না। প্রায় গোটা দিন না খেয়ে এক রত্তি মেয়ে। ট্রেন যখন ভোপাল স্টেশনে ঢুকল তখন দুধ কেনার চেষ্টা করেছিলেন সালমা। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে সেটা আর সম্ভব হয়নি। স্টেশনে আরপিএফ জওয়ান ইন্দর যাদবকে দেখতে পেতে সালমা মেয়ের জন্য একটু দুধের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ইন্দর এক মিনিটও সময় নষ্ট না করে ছুটে যান স্টেশনের বাইরে। দুধের প্যাকেট কিনে ফিরতে তাঁর একটু দেরি হয়ে যায়। ইন্দর ফিরে এসে দেখেন ট্রেন চলতে শুরু করেছে। তিনি এক হাতে সার্ভিস রাইফেল ও অন্য হাতে দুধের প্যাকেট নিয়ে ট্রেনের পেছনে ছুটতে শুরু করেন। তারপর সেই দুধের প্যাকেট তুলে দেন শ্রমিক মায়ের হাতে। ইন্দরের সেই দৌড়ের ভিডিও ওঠে স্টেশনের সিসিটিভিতে।  

আরও পড়ুন- ভারতে এসে বেআইনি ব্যবসা শুরু করেছিল এক পাকিস্তানি, দিচ্ছিল কর ফাঁকি! গ্রেফতার

ইন্দরের প্রশংসা করে টুইট করেছেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি ওই সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, দেখুন কী ভাবে একজন আরপিএফ জওয়ান উসেইন বোল্ট কেও পেছনে ফেলে দিচ্ছে। ইন্দর এখন সারা দেশের কাছে নায়কের সমান। দুর্ভোগের মধ্যে থাকা এক শ্রমিক মাকে সাহায্য  করে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।