#ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৬ : বছরের সবথেকে ফ্লপ পাঁচ ক্রীড়াবিদ

Updated By: Dec 18, 2016, 06:56 PM IST
#ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৬ : বছরের সবথেকে ফ্লপ পাঁচ ক্রীড়াবিদ

১) স্টিভেন স্মিথ - দেশটার নাম যখন ভারত, তখন তো ক্রিকেটের কথা আগে বলতেই হবে। কারণ, ভারতবাসীর প্রথম পছন্দের খেলা অবশ্যই ক্রিকেট। আর এই তালিকায় যে ক্রীড়াবিদকে নিয়ে আলোচনা শুরু হল, সেই স্টিভেন স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। ক্রিকেট কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতেও প্রথম সারির খেলা। রাগবি, ফুটবল, লন টেনিস এবং ক্রিকেট। অজিদের খেলাধুলোয় এই চার সবসময় থাকবে উপরে। তা স্টিভেন স্মিথ সেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন হিসেবে ২০১৬ সালে চূড়ান্ত ব্যর্থ। সে যে দলের সামনেই তাঁর দল খেলতে নেমেছে, পর্যুদস্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তো হারতে হয়েছে গো-হারা। তাই ২০১৬-র ব্যর্থ ক্রীড়াবিদদের কথা বলতে গেলে অবশ্যই নাম থাকবে স্টিভেন স্মিথের। কারণ, যে দল নিয়ে স্মিথ ব্যর্থ, সেই একই দল নিয়ে মাঝেমাঝেই ভালো ফল করে দেখিয়ে দিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার।

২) সাইনা নেওয়াল - লন্ডন অলিম্পিকে পদক জিতেছিলেন ব্যাডমিন্টনে। গোটা দেশের আশা ছিল, রিও থেকেও পদক নিয়েই ফিরবেন সাইনা। কিন্তু কোথায় কী! গত অলিম্পিকের ফর্মের ধারে-কাছে ছিলেন না সাইনা। তাই রিও অলিম্পিক থেকে পদক আনা তো দূর, একেবারে শুরুর দিকেই বিদায় নিয়েছেন দেশের ব্যাডমিন্টনের হায়দরাবাদের সুন্দরী। ব্যাডমিন্টনের অন্যান্য প্রতিযোগিতাতেও তাঁর পারফরম্যান্স এবার ভালো ছিল না। তাই দেশের সফল মেয়ে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হলেও ২০১৬-র বিচারে সাইনাকে ব্যর্থই বলতে হচ্ছে।

৩) নরসিংহ যাদব - গোটা বছরটা তাঁর নাম প্রাশ হয়েছে দেশের তামাম সংবাদমাধ্যমে। কারণ, অলিম্পিকের মঞ্চে সুশীল কুমারকে টপকে শেষ পর্যন্ত তাঁরই যাওয়ার কথা ছিল। দু-দুটো অলিম্পিক থেকে পদক পাওয়া সুশীল কুমার সবার কাছে, কত অনুনয় করেছিলেন যে, তাঁকে একবার নিজেকে প্রমাণ করার সূযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু কেউ কোনও সুরাহা করেননি সুশীলের জন্য। কিন্তু নরসিংহ যাদব, তিনি করলেন কী! দেশকে পদক তো দূর এনে দিলেন একরাশ লজ্জা। কারণ, অলিম্পিকের মাত্র কয়েকটা দিন আগে জড়িয়ে পড়লেন ডোপ কেলঙ্কারিতে। তিনি দোষী নাকি নির্দোষ, প্রমাণ হয়নি কোনওটাই। কিন্তু একটা কথা বলাই যায়, সুশীল কুমারের পরিবর্তে দেশের মানুষ তাঁর কাছে যে, ভরসাটা করছিল, সেই ভরসার দাম দিতে পারেননি নরসিংহ যাগব।

৪) লিওনেল মেসি - ফুটবল। এই গ্রহের সবথেকে জনপ্রিয় খেলা। আর সেই খেলাটায় গত এক দশক ধরে শাসন করছেন তিনি। লিওনেল মেসি। বিশেষ করে যদি ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্সের কথা বলা হয়, তাহলে মেসিকে ধরে রাখা দায়। কিন্তু খেলাটা যে শুধু ক্লাবের হয়েই নয়। খেলোয়াড়দের খেলতে হয় দেশের জার্সি গায়েও। আর লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ, তিনি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মোটেই ভালো খেলতে পারেন না। বার্সার পারফরম্যান্স তিনি স্পেনেই ফেলে আসেন। সেই মেসির সামনে এবার সূযোগ ছিল সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করার। যদি তাঁর অধিনায়কত্বে এবার আর্জেন্টিনা শতবর্ষের কোপা আমেরিকা জিততে পারতো। কিন্তু না। কোপায় দেশকে মোটেই জেতাতে পারেননি মেসি। উল্টে পেনাল্টি মিস করে দেশকে হারের মুখেই ঠেলে দিয়েছেন তিনি। আর সবশেষে হতাশায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরই নিয়ে ফেলেছিলেন। যদিও অভিমান ভেঙে ফের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে এসেছেন তিনি। অগণিত ফুটবলপ্রেমীদের আশা, আগামিদিনে ক্লাবের মতো আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতেও দেখা যাবে মেসি ম্যাজিক।

৫) আইপিএলে মহেন্দ্র সিং ধোনি- আইপিএলে এবারই প্রথম খেললো রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। আর এই দলের অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। আর ক্যাপ্টেন কুল এবং আইপিএলে সাফল্য দুটো যেন প্রায় সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছিল, গত কয়েক বছরে। চেন্নাই সুপার কিংসকে যেমন সাফল্য এনে দিয়েছেন ধারাবাহিকভাবে। তেমনই হলুদ জার্সিতে তাঁর নিজের পারফরম্যান্সও ছিল ঝলমলে। ভাবা হয়েছিল, ধোনির জাদু এবারও থাকবে। শুধু জার্সির রঙ বদলালে কী আর পরিবর্তন হবে! কিন্তু না। মহেন্দ্র সিং ধোনি এবার আইপিএলে চূড়ান্ত ব্যর্থ। তিনি নিজে। এবং অবশ্যই তাঁর দল। শুধু যে আইপিএলেই তা নয়। বলা যেতে পারে, ২০১৬ সালে মোটেই ভাল পারফরম্যান্স ছিল না ক্যাপ্টেন কুলের। কখনও সখনও নিশ্চয়ই ভালো খেলেছেন। কিন্তু সেই সাফল্য ধোনির আগের সাফল্যের সঙ্গে মানানসই নয় একেবারেই।