বঙ্গে বিজেপির চমকপ্রদ উত্থানের ইঙ্গিত মিলল জনমত সমীক্ষায়

এদিন গোটা দেশের জনমত সমীক্ষাও সামনে এনেছে টাইমস নাও-ভিএমআর। তাতে ফের নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এনডিএ পেতে পারে ২৭৯টি আসন। ইউপিএ-র দখলে যেতে পারে ১৪৯টি আসন। আর অন্যরা পেতে পারে ১১৫টি আসন।

Updated By: Apr 9, 2019, 01:53 PM IST
বঙ্গে বিজেপির চমকপ্রদ উত্থানের ইঙ্গিত মিলল জনমত সমীক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদন: চলতি লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে চমকপ্রদ ফল করতে বিজেপি। টাইমস নাও এবং ভিএমআর-এর যৌথ জনমত সমীক্ষায় তেমনটাই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তাদের এই সমীক্ষা সামনে আসে। সেখানেই এই তথ্য উঠে এসেছে।

ওই সমীক্ষা বলছে, এ রাজ্যে বিজেপির আসন সংখ্যা যেমন অনেকটাই বাড়বে, তেমনই ভোট শতাংশে তারা চমকে দিতে পারে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বিজেপির এই উত্থানে কোপ পড়তে পারে বামেদের ভোট শতাংশে। বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের আসনেও বিজেপি ভাগ বসাতে পারে বলে ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ফিরছেন মোদী, ইঙ্গিত মিলল ওপিনিয়ন পোলে

ওই সমীক্ষার দাবি, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে আসন কমবে তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূলের ভোট শতাংশও কমতে পারে। তবে কংগ্রেসের আসন কমলেও এ রাজ্যে তাদের ভোট শতাংশ বাড়তে পারে বলেই ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

টাইমস নাও এবং ভিএমআর-এর ওই সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ঠিক কী আভাস দেওয়া হয়েছে?

আরও পড়ুন: বুধবার পাহাড়ে মমতা, সমতলে অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার আসন ৪২। ২০১৪ সালে এর মধ্যে ৩৪টি আসন জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেস। তাদের দখলে ছিল চারটি আসন। বিজেপি ও সিপিএম দু'টি করে লোকসভায় জিতেছিল।

এবার সেই সংখ্যা একেবারে বদলে যেতে পারে বলে ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৩১টি আসন। আগেরবারের থেকে তাদের আসন কমতে পারে ৩টি। কংগ্রেস পেতে পারে একটিমাত্র আসন। তারা হারাতে পারে ৪টি আসন। বামেদের এবার ফিরতে হতে পারে খালি হাতে।

আরও পড়ুন: মোদী না মমতা, কোচবিহারে কার সভায় ভিড় বেশি দেখুন ছবিতে

আর বিজেপি তারা এবার পশ্চিমবঙ্গে ৯টি লোকসভা আসনে জিততে পারে বলে ওই সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তার মানে আগের থেকে বিজেপির এ রাজ্যে সাতটি আসন বাড়তে পারে। এর আগে আসন সংখ্যার নিরিখে এত সাফল্য বিজেপি পায়নি।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৩৯.৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ওই সমীক্ষার দাবি, এবার তৃণমূলের ভোট শতাংশ কমে হতে পারে ৩৭.৫ শতাংশ। কংগ্রেস গতবার ৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার আসন কমলেও ভোট শতাংশ বাড়বে বলে ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস পেতে পারে ১০.৪ শতাংশ ভোট।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি বুথে ভোটগ্রহণ হবে সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায়, জানাল নির্বাচন কমিশন

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ভোট শতাংশ ৬-এর আশপাশে থাকত। কিন্তু সেবার বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়ে হয় ১৬.৮ শতাংশ। তার পর রাজ্যে একাধিক নির্বাচন হয়েছে। একাধিক পুরসভার ভোট হয়েছে। বিধানসভার ভোট হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনও হয়েছে। প্রতিটিতেই বিজেপির আসন সেভাবে না বাড়েলও ভোট শতাংশে তারা ক্রমশ প্রধান বিরোধী হয়ে উঠেছে।

সেটাই লোকসভা নির্বাচনে বজায় থাকবে বলে ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ওই সমীক্ষা বলছে, বিজেপি এবার বাংলায় ৩১.৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে। আর সেই ভোটের অনেকটাই বামেদের থেকে তারা ছিনিয়ে নেবে বলে ওই সমীক্ষার পূর্বাভাস।

আরও পড়ুন: ভোটলুঠ রুখতে কড়া কমিশন, প্রথম দফায় ২ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে ১০৪ কোম্পানি বাহিনী 

কারণ, বামেরা ২০১৪ সালে ২৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার সেটা কমে দাঁড়াতে পারে ১৫.৯৬ শতাংশে।

এদিন গোটা দেশের জনমত সমীক্ষাও সামনে এনেছে টাইমস নাও-ভিএমআর। তাতে ফের নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এনডিএ পেতে পারে ২৭৯টি আসন। ইউপিএ-র দখলে যেতে পারে ১৪৯টি আসন। আর অন্যরা পেতে পারে ১১৫টি আসন।