কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই মাউন্ট এভারেস্টের (Mount Everest) শীর্ষে পৌঁছে ইতিহাস লিখেছেন পিয়ালি বসাক (Piyali Basak)। মঙ্গলবার চন্দননগরের বাড়িতে পিয়ালির সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
পিয়ালির দাবি, ৮৭৫০ মিটার উচ্চতায় হিলারি স্টেপে পৌঁছনোর পর তাঁর শেরপার জোরাজুরিতেই অক্সিজেন নিতে বাধ্য হন। এজেন্সির দাবি, ৮৪৫৯ মিটার উঠেই পিয়ালিকে সাপ্লিমেন্টারি অক্সিজেন নিতে হয়।
এভারেস্ট ও লোৎসে অভিযানের জন্য পিয়ালির প্রয়োজন ৩৫ লক্ষ টাকা। অভিযান শেষের পর নেপাল সরকারের কর, সামিট বোনাস ও এজেন্সি টিপ নিয়ে পিয়ালিকে আরও ৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে। ৩৯ লক্ষ টাকার মধ্যে ১৩ লক্ষ টাকা জোগাড় হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
এক নেপালি পর্বতারোহী মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি একাধিকবার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। পর্বত অভিযানের সংগঠকদের তরফে এই খবর পাওয়া গিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এলাকাতেও পৌঁছে গিয়েছে, দেখে তাজ্জব সব পক্ষ!
আদৌ কী এভারেস্টের শিখর ছুঁয়েছেন সুনীতা হাজরা? সামিটের বড় প্রমাণ ধরা হয় সেই মুহুর্তের ছবি। তা দেখাতে পারেননি সুনীতা। তাঁর দাবি, ক্যামেরা হারিয়ে যাওয়ায় ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। এভারেস্টজয়ী অন্য পর্বতারোহীরা বলছেন, ছবি ছাড়াও সামিট প্রমাণের একাধিক উপায় আছে। প্রশ্ন উঠছে, সেগুলির কোনওটাই কেন দিতে পারছেন না সুনীতা?
রাজ্যে ফিরলেন সুভাষ পাল। ফিরল এভারেস্ট জয়ী এই পর্বতারোহীর নিথর দেহ। কলকাতা বিমানবন্দরে পৌছনর পর তা পূর্ণ মর্যাদায় বাঁকুড়ার বাড়ির উদ্দেশে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। রাতেই কফিনবন্দি দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাঁকুড়ায়। রাতে পুলিস লাইনের হাসপাতালে রাখা হয় সুভাষ পালের দেহ। ভোরে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় পর্বতারোহীর বাড়িতে। মৃত পর্বতারোহীর কফিন বন্দি দেহ ঘরে পৌছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকস্তব্ধ পরিবার। আজ মৃত পর্বতারোহীর স্মরণে শোক মিছিল পরিক্রমা করবে বাঁকুড়া শহর। দুপুরে সুভাষ পালের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার গ্রাম বরুটে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে পর্বতারোহীর।
আগামিকাল ভোরে বাঁকুড়া শহরে পৌছবে সুভাষ পালের দেহ। জেলার প্রথম এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে চির বিদায় জানাতে গার্ড অফ অনার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাঁকুড়া জেলা পুলিস। তার আগে দেহ নিয়ে শহর পরিক্রমার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ক্লাব।
বাবা ফিরবেন না এটা এখন জেনে গিয়েছে সুভাষ পালের দশ বছরের মেয়ে সুশ্রিতা। বড় হয়ে বাবার মতোই সে পাহাড়ে যেতে চায়। স্বামীর হঠাত্ মৃত্যুতে অথৈ জলে পড়েছেন স্ত্রী বিশাখা। সংসার চালানোটাই এখন তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কাঠমান্ডুতে নামিয়ে আনা হয়েছে অভিযাত্রী সুভাষ পালের নিথর দেহ। কাঠমান্ডু থেকে অনেক দূরে বাঁকুড়ার ছোট্ট বাড়িতে এখন শুধুই হাহাকার।
আর ফিরবেন না অভিযাত্রী পরেশ নাথ। এভারেস্টের তুষার প্রান্তরেই শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর অভিযান। তবে দুর্গাপুরের বাড়িতে এখনও বাবার অপেক্ষায় বসে আছে ছোট্ট অদ্রিশেখর। ছেলেকে জবাব দেওয়ার মতো কথা খুঁজে পাচ্ছেন না মা সবিতা।
এবছরের মতো এভারেস্ট অভিযান শেষ। আজ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব রুট। ফলে ক্রমশই ক্ষীণ হচ্ছে গৌতম ঘোষ, পরেশ নাথের দেহ উদ্ধারের সম্ভাবনা। হদিশ পাওয়া গেলেও খারাপ আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিতে চাইছেন না শেরপারা। দুই পর্বতারোহীর দেহের হদিশ মিললেও তা এতটাই উচ্চতায় রয়েছে যে বিরূপ প্রকৃতিতে তা নামিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। প্রচন্ড ঝোড়ো হাওয়া এবং নতুন করে তুষারপাত উদ্ধার কাজ আরও কঠিন করে তুলেছে।
ধৌলাগিরির ক্যাম্প থ্রি ও ক্যাম্প ফোরের মাঝখান থেকে উদ্ধার হল পর্বতারোহী রাজীব ভট্টাচার্যের দেহ। তাঁর দেহ ক্যাম্প টুতে নামানো হয়েছে। সেখান থেকে নীচে নামানো হবে তাঁকে। ধৌলাগিরি অভিযানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এভারেস্টজয়ী রাজীব ভট্টাচার্য। সম্ভবত ১৯ মে রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। রাজীব ভট্টাচার্যের দেহ আনতে নেপালে রয়েছে রাজ্য সরকারের এক প্রতিনিধি দল। দেবদাস নন্দী রয়েছেন বেসক্যাম্পে।
এখন খবরের শিরোনামে শুধুই মাউন্ট এভারেস্ট। আনন্দের মাঝেও বিষাদের ছায়া। একদিকে যেমন বাঙালি পর্বতারোহীদের হিমালয় জয়, তেমন অন্যদিকে একের পর এক বাঙালি অভিযাত্রীর শৃঙ্গের কাছেই মৃত্যু। মাঝে মাঝেই খবর আসছে দেহ খুঁজে পাওয়ার। মৃত্যুর বিষাদ ঢেকে দিচ্ছে সমস্ত আনন্দকে। তাই মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে জেনে নিন এমন ১০টি তথ্য, যা আপনি প্রথমবার জানলেন-
কীভাবে মারা গেলেন সুভাষ পাল? গৌতম ঘোষ ও পরেশ নাথেরই বা কী হল? এভারেস্ট শীর্ষে পৌছেছিলেন কি অভিশপ্ত অভিযাত্রীরা? বেসক্যাম্প থেকে সেই অভিজ্ঞতাই লিখেছেন এভারেস্ট জয়ী রুদ্রপ্রসাদ হালদার। ফেসবুকে তুলে ধরেছেন নিজের অভিজ্ঞতা।
রাজীব ভট্টাচার্যের মৃত্যু এ প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু সুভাষ পালের মৃত্যু তুলে দিল সেই প্রশ্ন। দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার অভাবই কি মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল সুভাষকে? অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই কি ৮ হাজারির বিপদকে জয় করতে পারেননি পরেশ নাথ?
শিখর ছুঁতে গিয়ে কেন বারবার চির নিরুদ্দেশে চলে যাচ্ছেন বাঙালি পর্বতারোহীরা? কঠিন প্রকৃতির কোলে কেন নিথর হয়ে যাচ্ছে এরাজ্যের অভিযাত্রীদের জীবনীশক্তি?
গতকালের খবর বদলে গেল আজ। এভারেস্টে এক বাঙালি অভিযাত্রীর মৃত্যুর খবর। ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পর্বতারোহী সুভাষ পালের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল উদ্ধারের পরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে এখনও নিখোঁজ পরেশ নাথ ও গৌতম ঘোষ। দাবি সরকারের উদ্ধারকারী দলের সদস্য দীপঙ্কর ঘোষের। সুনীতা হাজরাকে উদ্ধার করে লুকলায় আনা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসা কাঠমাণ্ডু নিয়ে আসা হবে। লুকলা থেকে বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলেছেন সুনীতা। গতকাল দুপুরেই এভারেস্টের ৪ নিখোঁজ বাঙালি অভিযাত্রীকে উদ্ধারের খবর দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু সন্ধের পরই খবর বদলে যায়।
বাঙালির এভারেস্টজয়ের দিনই কাল পাহাড়ে অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান ৪ পর্বতারোহী। তবে কাল রাতেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সুনীতা হাজরা, পরেশ নাথকে। আজ খোঁজ মিলল সুভাষ পাল এবং গৌতম ঘোষের। রাত ৮টা নাগাদ সাউথ সামিটে অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে ৪ শেরপার একটি দল। উদ্ধারকারী দলে ছিলেন হিমালয়ান রেসকিউ এজেন্সির লাপ্পা শেরপা সহ বিগ প্রোমোশনের আরও ৩ জন।
এভারেস্টে ওঠার সময় প্রায় এসেই গেল। মে মাস থেকেই পর্বতারোহীরা এভারেস্টে ওঠার কাজ শুরু করে দেন। কিন্তু এবার তাঁদের সামনে বড়সড় বিপদের সম্ভাবনা। ফাটল দেখা দিয়েছে মাউন্ট এভারেস্টে! হ্যাঁ, নেপালের সেই ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ফলে এভারেস্টেও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।