অতিরিক্ত ভুঁড়ি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি! চাঞ্চল্যকর দাবি বিজ্ঞানীদের

২৫ লক্ষ মানুষকে নিয়ে পরিচালিত গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ভুঁড়ি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরাসরি দায়ি।

Edited By: সুদীপ দে | Updated By: Sep 25, 2020, 06:42 PM IST
অতিরিক্ত ভুঁড়ি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি! চাঞ্চল্যকর দাবি বিজ্ঞানীদের
—প্রতীকী চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন: দিনের পর দিন বাড়তে থাকা ওজন নিয়ে চিন্তিত? সারাদিন বসে বসে কাজ ভুঁড়ি বাড়াচ্ছে? কাজের চাপে শরীরচর্চারও সময় পাচ্ছেন না? ফলে ক্রমশ শরীরের ‘মধ্যপ্রদেশ’-এর আয়তন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ভুঁড়ি বা পেটে মেদ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়!

সম্প্রতি ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’ (The BMJ)-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, মোটা মানুষদের বা যাঁদের অতিরিক্ত ভুঁড়ি রয়েছে, তাঁদের অকাল মৃত্যু ঘটনা অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত ওজন আর স্থূলতার কারণে শরীরে একাধিক রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধে। গবেষকদের দাবি, যাঁদের BMI ২৫ থেকে ৪০ বা তার বেশি, তাঁদের মধ্যেই একাধিক রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধে, বাড়ে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি!

দীর্ঘ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ভুঁড়ির কারণে হৃদযন্ত্র, কিডনি, স্নায়ু-সহ একাধিক সমস্যা মাথা চাড়া দেয়। বিভিন্ন বয়সের প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষকে নিয়ে পরিচালিত ৭২টিরও বেশি গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত যে, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ভুঁড়ি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পর্ক যুক্ত।

গবেষণাপত্রগুলি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, স্থূলতার কারণে এমনিতেই একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। অতিরিক্ত ওজন আর স্থূলতায় ভুগছেন যে সমস্ত ব্যক্তি, তাঁদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও অন্যান্যদের তুলনায় অনেক কম হয়। অধিকাংশ মোটা মানুষেরই ডায়াবেটিস, কিডনি, হার্ট, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আগে থেকেই থাকে। ওজন বেশি হলে ফুসফুসের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই সমস্ত সমস্যার সমাধানে BMI সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। আসুন এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক...

আরও পড়ুন: চটজলদি ওজন কমাতে চান? কাজে লাগান মেথির এই ৫ অব্যর্থ টোটকা

আদর্শ ওজন নির্ণয় পদ্ধতি:

আদর্শ ওজন নির্ণয়ের পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির ওজন কিলোগ্রামে মাপা হয় আর উচ্চতা মাপা হয় মিটারে। ওজনকে উচ্চতার বর্গফল দিয়ে ভাগ করা হয়। এই ভাগফলকেই বিএমআই (BMI) বলা হয়। বিএমআই ১৮ থেকে ২৪-এর মধ্যে হলে তা স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়।